Home / শেরপুর / শেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, বৌভাতের অনুষ্ঠান থেকে বর গ্রেফতার

শেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, বৌভাতের অনুষ্ঠান থেকে বর গ্রেফতার

ads

শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বৌভাতের অনুষ্ঠান থেকে আক্রাম হোসেন (৩০) নামে এক বরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার কোন্নগর গ্রামের নানার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আক্রাম হোসেন উপজেলার রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের গাছগড়া গ্রামের মৃত ছৈন উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আক্রাম হোসেন ছোটবেলা থেকেই নালিতাবাড়ীর মরিচপুরাণ ইউনিয়নের কোন্নগর গ্রামে নানাবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। সেই গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে তিনি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। স্থানীয় কোন্নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে নানাভাবে প্রলোভনের মাধ্যমে আক্রাম প্রেমিকার কাছে চিঠি আদান-প্রদানের কাজ করাতেন। একপর্যায়ে আক্রাম ওই চিঠি আদান-প্রদানকারী ৪র্থ শ্রেণির মেয়েটিকেও কৌশলে ভালোবাসার জালে ফেলে গত ১৩ জুলাই রাতে বাড়ির পাশের রান্নাঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি ওই স্কুলছাত্রী তার ভাবিকে জানালে তিনি মানসম্মানের ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে চুপচাপ থাকেন।

এদিকে শুক্রবার গোজাকুড়া গ্রামের অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন আক্রাম। শনিবার দুপুরে নানাবাড়িতে তার বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠান চলছিল। ঘটনার পর থেকে ওই স্কুলছাত্রী বিদ্যালয়ে না যাওয়ায় দুপুরে এক শিক্ষক তার অনুপস্থিতির কারণ জানতে ছাত্রীর বাড়িতে হাজির হলে ধর্ষণের ঘটনাটি ফাঁস হয়। পরে ওই শিক্ষক ও ছাত্রীর পরিবার নালিতাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে দ্রুত পুলিশ অভিযুক্ত আক্রামকে বৌভাত অনুষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

ওই স্কুলছাত্রীর বড় ভাই বলেন, আক্রাম নেশাগ্রস্ত একটা ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে। সে কৌশলে আমার বোনকে ধর্ষণ করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

অভিযুক্ত আক্রাম হোসেন থানা হেফাজত থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেন, আমি ওই মেয়েকে ধর্ষণ করিনি। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অভিযোগ।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফসিহুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আক্রামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে। মেয়েটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রোববার তাকে শেরপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: