Home / সামাজিক মাধ্যম / শতাব্দীর সেরা ছবিটা দেখবেন?

শতাব্দীর সেরা ছবিটা দেখবেন?

কিঙ্কর আহসান: দেখুন, রাজপথে বসে আছে একদল ছেলে। বৃষ্টিতে ভিজে একসা। তারা বন্ধু, ভাই, বোন হত্যার বিচার চায়। নাছোড়বান্দা, একগুয়ে, জেদি। বুকের ভেতর আকাশসমান শোক। তাদের দুঃখে আকাশও কাঁদে যে! আর কে কাঁদে জানেন? মা।

খেয়াল করুন, মায়ের হাতে খাবারের প্লেট। ছেলেরা আমার না খেয়ে আছে তো। কষ্ট সহ্য করা যায়না। মায়ের মন মানে? এক, এক লোকমা তুলে দিতে থাকেন সন্তানদের মুখে। ‘বাবা, তোরা পথে থাকবি, এই এতটুকুন মানুষ তোরা, লড়াই করবি দানবগুলোর সাথে, তোদের শক্তি লাগবে না? বাবারে একটু কিছু মুখে দে।’

মা আমার বৃষ্টিতে সন্তানদের পাশে দাড়িয়ে থাকেন। কবে বিচার পাবেন এই অপেক্ষা। ছেলেদের ঘরে ফেরা দরকার তো। আরও একটু মনোযোগ দিলে দেখবেন, মায়ের মাথায় ছাতা ধরে রেখেছে এক ছেলে। কী সন্মান! মমতার মূল্য বোঝে ওরা। ভালোবাসার প্রজন্ম আমার, শ্রদ্ধার প্রজন্ম আমার এসব কি দেখছি?

কসম বলছি, গত কয়েকদিন ধরে যা দেখছি এসবে অভ্যস্ত না আমরা। দেখলাম উল্টো পথে এসেছে বলে ভদ্রভাবে বুঝিয়ে একজন প্রভাবশালী নেতার গাড়ি সঠিক পথে পাঠানো হয়েছে। দেখলাম, কোটি টাকা খরচের পরেও যে দেশের ট্রাফিক বেলাইনে থাকে সেই ট্রাফিক লাইনে নিয়ে এসেছে কয়েকটা ছেলেমেয়ে।

দেখলাম, আইনশৃংখলা বাহিনীর যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তাদের আইন মানার অনুরোধ করা হচ্ছে। দেখলাম, লাইকের ধান্দায় যারা লাইভে আসে আর সুযোগের সঠিক ব্যবহার করে স্বার্থ উদ্ধার করে তাদের মোবাইল হাতে নিয়ে বাসায় চলে যাবার অনুরোধ করা হচ্ছে। দেখলাম, চালকদের লাইসেন্স থাকলেই শুধুমাত্র গাড়ি নিয়ে পথে নামতে বলা হচ্ছে।

দেখলাম, রাস্তায় থাকা কাঁচ, ময়লা, প্ল্যাকার্ড দিনশেষে নিজেরাই পরিস্কার করে বাসায় ফিরছে সবাই। দেখলাম, বন্ধুর জন্য বন্ধুর চিৎকার করে কান্না, ক্রোধ, শোক, আহাজারি! দেখলাম মানুষ! এই প্রথমবারের মতোন আমি একদল মানুষ, একদল অভিভাবক দেখলাম রাস্তায় যাদের জন্মই পথ দেখানোর জন্য। যারা ভন্ড বুড়োদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলছে, স্যার দেশটা এইভাবে চালাতে হবে।

বিক্রি হয়ে গেলে হবে? দেশ না আমাদের মা? মা’কে বিক্রি করা যায়? বৃষ্টিতে মায়ের মাথায় ছাতা ধরুন আর রোদে ছায়ার জন্য মস্ত শামিয়ানা টানিয়ে দিন। মা যেনো ভালো থাকে। মা’কে কষ্ট দেবেন না।

শতাব্দীর এই সেরা ছবিটা দেখেছেন? এটা একটা দেশের ম্যাপ। ভালো করে খেয়াল করুন দোহাই লাগে। দাড়িয়ে থাকা এই মা হচ্ছে আমার দেশ। আর রাজপথে বসে থাকা, মায়ের মাথায় ছাতা ধরে রাখা ছেলে মেয়েরা হচ্ছে বীর সেনানী। এতো সাহস কই থেকে আসে? আমাদের বুড়োদের কেনো মেরুদন্ড নেই? কতো কিছু হয়ে গেলো তবুও চুপ করে থাকলাম। নতুন অভিভাবকরা শোনো, তোমাদের কারো উপদেশ প্রয়োজন নেই।

নিজেদের মা’কে ভালোবাসতে, সন্মান দেখাতে তোমাদের চেয়ে ভালো আর কেউ পারেনা, পারবেও না। যা সিদ্ধান্ত নেবার নিজেরাই নাও। মাথা ঠান্ডা রাখো। মা’কে নিয়ে কথা হচ্ছে। কথা হচ্ছে বন্ধু, ভাই, বোনকে নিয়ে। এতো সহজ না!

পৃথিবীর সকল শাসকরা শুধু সাধারন মানুষকেই ভয় পায়। তাদের বুক কেঁপে ওঠে ন্যায়ের পক্ষে তোলা স্লোগান শুনলে। তোমরা তো সাধারন নও। তোমরা অসাধারন। তোমাদের সাথে করুণাময় আছেন। তোমাদের সাথে বাবা আছেন। তোমাদের সাথে মমতাময়ী মা আছেন। তোমাদের বুকে কঠিন সাহস আছে। আর কী প্রয়োজন? কোনো কলুষতা ঘেষতে দিওনা কাছে।

সকল অন্যায়, অমানুষদের ঝাড়– পেটা করে বিদায় করো। দেশ পরিস্কার হোক। মা ভালো থাকুক। নিরাপদে থেকে রাস্তায় দাড়িয়ে যাও। সত্যের জন্য, ন্যায়ের জন্য পথে দাড়িয়ে গর্জে ওঠো। চিৎকার করে বলো, ‘লাইসেন্স দেখান।’ তোমরা যতবার বলো, ‘লাইসেন্স দেখান।’ আমার মতোন ভীরু, বুড়িয়ে যাওয়া মানুষ ততবার শোনে ‘জয় বাংলা।’

মায়ের মন ভেঙে দিওনা। ইতিহাস হও। মা গর্ব করুক। বাবা গর্ব করুক। ভাই গর্ব করুক। বোন গর্ব করুক। ভালোবাসার সন্তান মায়ের। রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা পৃথিবী সমান কলিজা নিয়ে বড় হওয়া এই এতোটুকুন আদরের সন্তান তোমরা ভালো থাকো। এই দেশ তোমাদের। তোমার। ব্যাস!

লেখাটি কিঙ্কর আহসান এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: