Home / শেরপুর / ‘ফাও’ ধান পেয়ে খুশি শেরপুরের হাজারও কৃষক

‘ফাও’ ধান পেয়ে খুশি শেরপুরের হাজারও কৃষক

ads

বোরো ধান গাছের দেড়-দুই ফুট উঁচুতে ধান কাটার সাত থেকে আট দিনের মধ্যে মোথা বা গোড়ায় কুশি বের হয়। এর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আবার গোড়ার মধ্যে আসে শীষ। শীষ আসার ২০ থেকে ২৫ দিন পর পাকে ধান। কৃষকরা একে পরঙ্গা (পরে পাওয়া), বোনাস বা ফাও ধান বলছে। কৃষি বিভাগের ভাষায় যা রোটেন ক্রপ বা মুড়ি ধান। বিনা খরচে একরপ্রতি ১৪-১৫ মণ মুড়ি ধান উৎপাদন করতে পেরে খুব খুশি শেরপুরের কৃষকেরা।

কোথাও কোথাও একরপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মণও ধান হয়েছে। এই ধান বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি আয় করতে পারছে কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুড়ি ধানের ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে। এর মধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মুড়ি ধান হয়েছে। উপজেলার পোড়াগাঁও, নন্নী, রামচন্দ্রকুড়া, কাকরকান্দি, নালিতাবাড়ী সদর, মরিচপুরান ও বাঘবেড় ইউনিয়নের কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পেয়েছে।

অন্যদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৩০০ বিঘা জমিতে হয়েছে এই ধানের আবাদ। এই ধান উৎপাদন করতে কৃষকের সার, তেল, বীজ, কীটনাশক কোনোটিই লাগেনি। কেবল ধান কাটার পর মাড়াই করেছে তারা।

নালিতাবাড়ীর বিন্নিবাড়ী গ্রামের কৃষক নজরুল বলেন, ‘আমার ১০ কাঠা জমিতে ইবার হিরা জাতের বোরো ধান লাগাইছিলাম। আগে পাইছি ২৫ মণ আর ফাও ধান হিসাবে আরো পাইছি সাত মণ। এই ধান পাইয়া আমি খুব খুশি।’

কালাকুমা গ্রামের মোস্তফা বলেন, ‘সাত কাডা (কাঠা) জমিতে পাইওনিয়ার জাতের বোরো ধান লাগাইয়া ২০ মণ ফলন পাইছিলাম। অহন কাটা ধানের মুছি (গোড়া) থাইক্কা কোনো যত্ন ছাড়াই ধান পাইছি আরও পাঁচ মণ। এই ধান বেচার টাকা দিয়া আমন ধানের বীজতলা তৈয়ারি করছি। চাষাবাদের জন্য খরচের চিন্তা করতে অইতাছে না। আমার মতো আরো হাজারো কৃষক এমন সুবিধা পাইছে।’

ঝিনাইগাতীর হাতীবান্ধা গ্রামের আবুল হাশেম বলেন, ‘বোরো ধানের চারার গুছি থাইক্কা যে চারা গজায় তা রাইখা দিছিলাম। মাত্র দেড় মাসেই কোনো পরিচর্যা ছাড়া মুড়ি ধানের ফলন কাটা হইছে।’

একই গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, তার ২২ কাঠা জমিতে মুড়ি ধান হয়েছে ১৫ মণ। শুধু ধান কাটানোর ব্যয় ছাড়া পুরোটাই লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি।

মূল ধান কাটার পর ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই মুড়ি ধান কাটতে পারে কৃষকরা এমনটা জানিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ ইকবাল বলেন, ‘যেসব জমিতে ধান গাছ দেড়-দুই ফুট উঁচুতে কাটা হয়েছে সেসব জমিতে মুড়ি ধান পাওয়া যায়। উপজেলায় এ বছর বোরো ধান কাটা হয় মে মাসের শুরুতে। আর মুড়ি ধান কাটা শুরু হয় জুন মাসের শেষ সপ্তাহে। চলতি মৌসুমে মুড়ি ধান আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে আশাজাগানিয়া। মুড়ি ধানকে আউশের বিকল্প লাভজনক ফসল হিসেবেও ভাবা হচ্ছে।’

এ সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘ফাও ধান পেয়ে কৃষকরা দ্বিগুণ উৎসাহিত হয়েছে। এই ধানের পরিমাণ বাড়াতে বোরো ধান কেটে ফেলার পর সেই জমিতে বিঘাপ্রতি পাঁচ কেজি ইউরিয়া ও পাঁচ কেজি পটাশ সার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাদের। তাছাড়া গরু-ছাগল যাতে ক্ষেত নষ্ট না করতে পারে সে জন্য ক্ষেতের চারদিকে ঘের দিয়ে ধানগাছ রক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’ /ঢাকাটাইমস

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: