Home / জামালপুর / পাইলট পলাশের মৃত্যুর খবরে জামালপুরে শোকের ছায়া

পাইলট পলাশের মৃত্যুর খবরে জামালপুরে শোকের ছায়া

ads

যশোরে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে নিহত বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার এনায়েত কবির পলাশের (৩৬) বাড়ি জামালপুরে। তার মৃত্যুর খবরে নিজ এলাকায় আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত এনায়েত কবির পলাশের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের কৃষ্টপুর গ্রামে। ডা. শফিউদ্দিন ও রোকেয়া বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে তিনি বড়।

১৯৯৭ সালে জামালপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন পাইলট এনায়েত কবির। ১৯৯৯ সালে সরকারি আশেক মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০০০ সালে ফ্লাইট ল্যাফটেনেন্ট পদে বাংলাদেশ বিমানে যোগ দেন।

২০০২ সালের ডিসেম্বরে ৪৬তম ব্যাচে কমিশন লাভ করেন। ৫ বছর আগে পাইলট এনায়েত কবির পলাশ রাজবাড়ীর ডা. নায়ান কবির নীতিকে বিয়ে করেন। তাদের তারিশা নামে ৩ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে।

নিহত পাইলট এনায়েত কবিরের মামা ডা. আবু তাহের জানান, তেজগাঁওয়ে শাহীন কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পলাশকে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, রোববার রাত নয়টা ২০ মিনিটে যশোরের মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটি থেকে একটি প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই যশোর সদর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের বুকভরা বাওড়ের মধ্যে আছড়ে পড়ে। এতে বিমানে থাকা স্কোয়াড্রন লিডার মো. সিরাজুল ইসলাম এবং স্কোয়াড্রন লিডার এনায়েত কবির পলাশ নিহত হন।


আরো পড়ুন: নিহত ২ পাইলটের খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার

যশোরে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত দুই পাইলটের হাত, মাথা, পাজরের হাড়সহ খন্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা সোমবার সকালে নিহত দুই পাইলটের শরীরের অংশবিশেষ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান এখনো চলেছে।

তাই দুঘর্টনাস্থলের ২শ’ গজের মধ্যে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিমান, সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে বলে জানান যশোর ফায়ার সাভির্সের উপপরিচালক পরিমল চন্দ্র কুণ্ডু।

তিনি বলেন, নিহত স্কোয়াড্রন লিডার মো. সিরাজুল ইসলাম এবং স্কোয়াড্রন লিডার এনায়েত কবির পলাশের লাশ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযানে তাদের একটি হাত, দুটি মাথা, পাজরের হাড়সহ শরীরের অংশবিশেষ উদ্ধার হয়েছে। বিমানের অনুমানিক ৩৫ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। অভিযান এখনো চলছে।

এর আগে সকাল সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

এদিকে সকালে দুর্ঘটনাস্থল যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের আরিচপুর গ্রাম সংলগ্ন বুকভরা বাওড়ের ধারে গিয়ে দেখা যায় হাজারো উৎসুক জনতার ভিড়। দুর্ঘটনার শিকার বিমান ও দুই পাইলট উদ্ধার দেখতে এসেছেন তারা। সাধারণ মানুষ বলছে, তারা জীবনে কখনো এমন ঘটনা তারা দেখেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মঠবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আশুতোষ সরকার বলেন, রোববার রাত ৯টার দিকে বাওড়ে মাছ ধরতে এসে বাওড়ের ধারেই ছিলাম। হঠাৎ দেখি দক্ষিণ আকাশে বিকট শব্দে একটি বিমান ব্লাস্ট (বিস্ফোরণ) হয়। এরপর আগুনের গোল্লা বাওড়ের জলে পড়ে। কিছুক্ষণ পর এলাকাবাসী বাওড়ের ধারে ভিড় করে।

যশোরে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দুই পাইলটই নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

নিহতরা হলেন- স্কোয়াড্রন লিডার মো. সিরাজুল ইসলাম এবং স্কোয়াড্রন লিডার এনায়েত কবির পলাশ। বিমানটি চালাচ্ছিলেন তারা দুইজন।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: