Home / নেত্রকোনা / নেত্রকোনায় ডাকাতির সময় গুলি করে হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
নেত্রকোনা

নেত্রকোনায় ডাকাতির সময় গুলি করে হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ads

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে আদমপুর গোহালবাড়ী গ্রামে ডাকাতি করার সময় ডাকাতদের গুলিতে চয়ন সরকার (২৫) নামক এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ ডাকাতকে মৃত্যুদণ্ড, ১৯ ডাকাতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা মঙ্গলবার জনাকীর্ণ আদালতে ৫ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছে নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার আমলীপুর গ্রামের সেকান্দর আলীর ছেলে উছমান গনি (৩৯), সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার টেঙ্গা গ্রামের মোস্তফা বেপারীর ছেলে কাওসার আহমেদ (৩৭) এবং শাল্লা উপজেলার চাঁনগাও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে (পলাতক) তাহের (৩২)।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শহীদ মিয়া, জ্যোতি, মহিবুর ডাক্তার, রমজান মিয়া, সিদ্দিক, মনু মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, শাহজাহান, কবির, রইস আলী, জিয়াউল হক, শফিক, দিদার, খলিল, আক্কাস, হিরা, কইল্যা ওরফে ওস্তার আলী, শুকুর এবং রইক্যা ওরফে রহিম। মামলা চলাকালে এক আসামির মৃত্যু হয়। এদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

জেলা জজ আদালতের পিপি (চলতি দায়িত্বে) সাইফুল আলম প্রদীপ জানান, খালিয়াজুরী উপজেলার আদমপুর গোহালবাড়ী গ্রামে বিগত ২০১১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ২৫-৩০ জনের একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দল মনোরঞ্জন সরকারের বাড়িসহ আরও তিনটি বাড়িতে ডাকাতি করার সময় গ্রামবাসী টের পেয়ে ডাকাত দলকে ঘেরাও করে ফেলে।

এ সময় ডাকাতরা এলোপাতাড়ি বন্দুকের গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। ডাকাতের গুলিতে চয়ন সরকার (২৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। নিহত চয়নের বাবা মনোরঞ্জন সরকার বাদী হয়ে ওইদিনই অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে খালিয়াজুরী থানায় ডাকাতি ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিগত ২০১৩ সনের ২৪ জানুয়ারি ২৩ জন ডাকাতের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলা চলাকালীন সময়ে আক্কাস (২৫) নামে একজন আসামির মৃত্যু হয়। বিজ্ঞ বিচারক ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণাদি গ্রহণান্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় উল্লিখিত রায় প্রদান করেন। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ খান।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: