Home / ক্যাম্পাস / জুনিয়র শিক্ষার্থীকে জুতা দিয়ে মারল বাকৃবি ছাত্রলীগের নেতা
বাকৃবি

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে জুতা দিয়ে মারল বাকৃবি ছাত্রলীগের নেতা

ads

জুনিয়রদের কাজকর্ম বিষয়ে সিনিয়র নেতাদের না জানানোর কারণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবাসিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ৩য় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে জুতা দিয়ে মেরেছে শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক কামরুল হাসান। মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের গেস্ট রুমে ওই মারধরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সামনের অবস্থিত ‘লো-অ্যান্ড-ডাউন’ ব্রিজের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ৪-৫ জন বখাটে ছেলে ইভটিজিং করে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিনজন শিক্ষার্থী বখাটেদের সঙ্গে তর্কাতর্কি করে। বখাটেরা তাদের পকেট থেকে চেইন বের করে দেখালে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসে। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের মাঠে খেলারত শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে এসে বখাটেদের মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ফসিলের মোড় সংলগ্ন এলাকার বখাটেরা। রাত ৮টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের ২য় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী ফসিলের মোড়ে রাতের খাবার খেতে যায়। এ সময় বখাটেরা তাদেরকে আটকে রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এতে হলের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা বখাটেদের মারতে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়। কিন্তু হলের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারামারি থেকে নিবৃত্ত করে। এই ঘটনার পর হলের সিনিয়র ছাত্রলীগ কর্মীরা ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিথি কক্ষে বসে আলোচনা করে।

ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ইমতিয়াজ আবীর বিষয়টি আপাত মীমাংসা করে চলে যান। ইমতিয়াজ আবীর চলে যাওয়ার পর পশুপালন অনুষদের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইরান মিয়ার সঙ্গে ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক কামরুল হাসানের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কামরুল হাসান রেগে গিয়ে ইরানকে জুতা খুলে মারধর করে। এতে ৩য় বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্ষেপে যায় এবং হৈ চৈ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আবার সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মাহাথীর মুহাম্মদ সামী ও ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ইমতিয়াজ আবীর চলে আসে। এ সময় তারা নিজেদের মাঝেও চিৎকার চেঁচামেচি করেন। পরবর্তীতে হল ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাকর্মীরা মিলে বিষয়টি মিমাংসা করে।

মার খাওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে মো. ইরান মিয়া বলেন, আমার সঙ্গে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। মারধরের বিষয়ে কামরুল হাসানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মাহাথীর মুহাম্মদ সামী বলেন, ফসিলের মোড়ে দুইজন শিক্ষার্থীদের আটকে রাখার চেষ্টা করে বখাটেরা। এই কারণে ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না থাকায় ৪র্থ বর্ষের ছাত্রলীগ নেতারা তাদের জবাবদিহি করে। এ সময় কামরুল হাসানের সঙ্গে ইরান মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিমাংসা হয়ে গেছে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: