Home / সফলদের গল্প / কাগজের ঠোঙ্গা বানিয়েও খরচের টাকা জোগাড় করতে হয়েছে সোহেলকে
হবিরবাড়ি এলাকার ছেলে মো. সোহেল রানা

কাগজের ঠোঙ্গা বানিয়েও খরচের টাকা জোগাড় করতে হয়েছে সোহেলকে

ads

৩৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত, ইংরেজিতে প্রথম স্থান অধিকারী
মো: সোহেল রানা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকার ছেলে মো. সোহেল রানা। পরিবারের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। প্রচণ্ড অভাব-অনটন ছিল পরিবারের নিত্যসঙ্গী, উচ্চশিক্ষিত ছিল না কেউই।

সেসব পিছনে ফেলে এবার ৩৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন সোহেল, ইংরেজি বিষয়ে অর্জন করেছেন প্রথম স্থান।

স্কুলে পড়ার সময় অন্যের কাছ থেকে ধার করে বই পড়তেন, কলেজে শিক্ষকরা দিয়েছিলেন পুরোনো বই। আর্থিক টানাপোড়েনে একসময় পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল। এমনকি, কাগজের ঠোঙ্গা বানিয়ে বিক্রি করেও তাকে খরচের টাকা জোটাতে হয়েছে।

সেই সোহেলের আজকের সাফল্যের পিছনের কারণ তার একক প্রচেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়।

মো. সোহেল রানা ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়ন সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০৩ সালে মাধ্যমিক ও শ্রীপুরের পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে টঙ্গী সরকারি কলেজে ইংরেজিতে পড়াশোনা করে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া দূরে থাক, ঢাকায় আসা-যাওয়া করার মতো সামর্থ্যও ছিল না। পরে টঙ্গীতে ফুফার বাসায় গেলেন। সেখানে থেকে টঙ্গী কলেজে ভর্তি হন। ক্লাসে ভালো ফলাফলের জন্য ইংরেজি বিভাগের প্রধান তাকে একটা ডিকশনারি উপহার দেন।

হবিরবাড়ি এলাকার ছেলে মো. সোহেল রানা

হবিরবাড়ী ইউনিয়ন সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকর্মীদের সাথে মো: সোহেল রানা।

 

কিন্তু নানা টানাপোড়েনে টঙ্গীতে বেশি দিন থাকা হয়নি, চলে আসেন গ্রামের বাড়িতে। এই সময়ের মধ্যে টঙ্গীতে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, জুতার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে হয়েছে। প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হতো। পরিবার থেকে খরচ জোগানো অসম্ভব ছিল।

গ্রামে ফেরার পর সেখানে থেকেই টিউশনি করে খরচ জোগাড় করে লেখাপড়া শেষ করেন। মাস্টার্সে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৯ সালে চাকরি হলো সাহেরা নায়েব ল্যাবরেটরি স্কুলে। পরে ২০১২ সালে যোগ দেন হবিরবাড়ী ইউনিয়ন সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে।

এখনো সেখানেই কর্মরত। মাঝে ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফলাফলে নন-ক্যাডারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও যোগ দেননি। কিন্তু বেসরকারি স্কুলে চাকরি করাটাও যেন আরেক সংগ্রাম। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে নিজে নিবন্ধিত শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেও স্কুলের এমপিওভুক্তি ছিল না।

হবিরবাড়ি এলাকার ছেলে মো. সোহেল রানা

নানা জটিলতায় সেই প্রক্রিয়াও এগোচ্ছিল না, তাই বেতন নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকত। এদিকে বয়স ত্রিশের দিকে এগোচ্ছে, তাই উপায়ন্তর না দেখে বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করলেন। ৩৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে ফল এলো। হাল না ছেড়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকলেন।

এরইমাঝে ৩৭তম বিসিএসে অংশ নিয়ে এবার ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন। মো. সোহেল রানা বললেন, ‘আমার সাফল্যে পরিবারের সবাই খুশি হয়েছেন। আমি শিক্ষকতার প্রতি ভালোবাসা থেকেই বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারকে পছন্দ করেছি, ভবিষ্যতে নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করে যেতে চাই।’ /ইত্তেফাক থেকে

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: